Jump to content

Wn/bn/বিশ্বের বিরলতম রক্ত: 'গোল্ডেন ব্লাড' নিয়ে গবেষণা

From Wikimedia Incubator
< Wn | bn
Wn > bn > বিশ্বের বিরলতম রক্ত: 'গোল্ডেন ব্লাড' নিয়ে গবেষণা

রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

চিকিৎসা বিজ্ঞানে মানব রক্ত সঞ্চালন একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি হলেও, বিরল রক্তের গ্রুপ বা 'রেসাস ফ্যাক্টর' (Rh) সংক্রান্ত জটিলতা অনেক ক্ষেত্রেই জীবন রক্ষায় বাধা সৃষ্টি করে। সম্প্রতি, বিশ্বের সবচেয়ে বিরল রক্তের গ্রুপ আরএইচ নাল (Rh-null) নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। এই দুষ্প্রাপ্য রক্তকে এর অসাধারণ সর্বজনীন ব্যবহারযোগ্যতার কারণে বৈজ্ঞানিক মহলে 'গোল্ডেন ব্লাড' বা 'সোনালী রক্ত' নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে এই রক্তের উপস্থিতি থাকে বলে জানা যায়, এবং পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৫০ জন মানুষের দেহে এটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

বিরলতার কারণ ও রহস্য: আরএইচ নাল রক্তের এই চরম বিরলতার মূলে রয়েছে একটি জিনগত রূপান্তর। রক্তে থাকা রেসাস (Rh) ফ্যাক্টরটি ABO সিস্টেমের পাশাপাশি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ রক্ত গ্রুপ ব্যবস্থা। সাধারণত, একজন মানুষের লাল রক্তকণিকার পৃষ্ঠে অন্তত ৫০টিরও বেশি Rh অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি দেখা যায়। কিন্তু আরএইচ নাল রক্তের ক্ষেত্রে, এই অ্যান্টিজেনগুলোর একটিও উপস্থিত থাকে না।

ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের সেল বায়োলজির অধ্যাপক অ্যাশ টয়ে ব্যাখ্যা করেন, এই অবস্থা তৈরি হয় যখন জেনেটিক মিউটেশন Rh অ্যান্টিজেন প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, Rh অ্যাসোসিয়েটেড গ্লাইকোপ্রোটিন (RhAG)-কে প্রভাবিত করে। এই সম্পূর্ণ অ্যান্টিজেন অনুপস্থিতির কারণেই রক্তটি এত দুষ্প্রাপ্য।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বহুমুখী উপযোগিতা: যদিও এই রক্তের গ্রুপের মানুষদের নিজেরা রক্ত গ্রহণের প্রয়োজন হলে উপযুক্ত দাতা খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে Rh-null রক্তটি নিজেই একটি 'সার্বজনীন দাতা' হিসেবে কাজ করতে পারে।

যেহেতু এতে Rh অ্যান্টিজেন থাকে না, রক্ত সঞ্চালনের পর Rh অ্যান্টিজেন দ্বারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (immune system) সক্রিয় হয়ে ওঠার ঝুঁকি প্রায় থাকে না।

অধিকাংশ আরএইচ নাল রক্তই 'ও টাইপ' হওয়ায়, এতে A, B বা Rh কোনো অ্যান্টিজেনই থাকে না। ফলে এটি ABO সিস্টেমের সব ভ্যারিয়েন্টসহ সকল ধরনের Rh রক্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জরুরি পরিস্থিতিতে, যেখানে রোগীর সঠিক রক্তের ধরন জানা থাকে না, সেখানে কম এলার্জির ঝুঁকিতে এই রক্ত ব্যবহার করা সম্ভব।

ল্যাবরেটরিতে 'সোনালী রক্ত' তৈরির প্রচেষ্টা: আরএইচ নাল রক্তের এই বিশাল উপযোগিতা এবং এর মারাত্মক দুষ্প্রাপ্যতা বিজ্ঞানীদের গবেষণার মূল চালিকাশক্তি। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখন ল্যাবরেটরিতে এই রক্তের মতো কৃত্রিম বিকল্প তৈরির চেষ্টা করছেন।

২০১৮ সালে অধ্যাপক অ্যাশ টয়ে এবং তার দল ল্যাবরেটরিতে আরএইচ নাল রক্তের অনুকরণ তৈরি করতে সফল হন। তারা CRISPR-Cas9 নামের জিন এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঁচটি প্রধান ব্লাড গ্রুপের অ্যান্টিজেন সংশ্লিষ্ট জিন (ABO, Rh, Kell, Duffy, এবং GPB) মুছে ফেলেন। এই পাঁচটি অ্যান্টিজেনই সাধারণত রক্ত সঞ্চালনে সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি সৃষ্টি করে।

গবেষকরা আশা করছেন, ল্যাবরেটরিতে এই 'গোল্ডেন ব্লাড' তৈরি করে হিমায়িত সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বিরল রক্তের গ্রুপের মানুষজনের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য এটি একটি 'বিরল রক্তের ব্যাংক' হিসেবে কাজ করবে।

যদিও বিজ্ঞানীরা এই ল্যাব-উৎপাদিত রক্তকে মানুষের ক্লিনিকাল ব্যবহারে আনার জন্য বহু ধাপের ক্লিনিকাল ট্রায়াল এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তবুও তারা স্বীকার করেন যে বর্তমানে একজন দাতার কাছ থেকে সরাসরি রক্ত সংগ্রহ করা অনেক বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী। তবে বিরল রক্তের গ্রুপের মানুষের জন্য, এই প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



উৎস

[edit | edit source]