Jump to content

Wn/bn/গবেষকরা জানিয়েছেন যে বায়োব্যাটারি ইঁদুরের টিউমার ৯৯% কমিয়ে দেয়

From Wikimedia Incubator
< Wn | bn
Wn > bn > গবেষকরা জানিয়েছেন যে বায়োব্যাটারি ইঁদুরের টিউমার ৯৯% কমিয়ে দেয়

বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

বুধবার সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নাল নামে ইংরাজিতে প্রকাশিত জার্নালের একটি গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, ইমপ্লান্ট করা বায়োব্যাটারির মাধ্যমে মাত্র দুই সপ্তাহে একটি ক্যানসারজাত টিউমার ৯৯% পর্যন্ত সঙ্কুচিত করা সম্ভব হয়েছে। এই উদ্ভাবনী পদ্ধতি ক্যানসার চিকিৎসায় ওষুধের উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই বায়োব্যাটারিগুলি টিউমার স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জৈব প্রক্রিয়া ব্যবহার করে। ব্যাটারি ডিসচার্জের সময় জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজ আয়ন নির্গত হয়, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা বাড়ায়।

জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজ ইলেকট্রোড, ইউবি এবং ডিসচার্জিং ব্যাটারির (ডিবি) প্রভাবে টিউমারের বৃদ্ধি। Template:Wn/bn/Image source

ত্বক ও পেশির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত সাবকিউটেনিয়াস টিউমারে এই যন্ত্র প্রয়োগের ফলে টিউমারের আয়তন হ্রাস পায়। প্রথম দিনে টিউমারের আয়তন ছিল ৫০ থেকে ৬০ mm³। ১৫তম দিনে, বেশ কয়েকটি ওষুধবিহীন চিকিৎসা কার্যকর না হওয়ায় টিউমারের আয়তন বেড়ে ১,০০০ mm³-এ পৌঁছায়। অন্যদিকে, বায়োব্যাটারির ব্যবহারে টিউমার সঙ্কুচিত হয়ে মাত্র ৪ mm³-এ নেমে আসে। গবেষকরা প্রতিদিন রঞ্জন রশ্মি ডিফ্র্যাক্টোমেট্রি ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক প্রাণীগুলিতে—যেমন ইঁদুরে—টিউমারের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

এই গবেষণায় ওলংগং বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া, এবং জিলিন বিশ্ববিদ্যালয়, চীন, যৌথভাবে কাজ করে। চীনের তিনটি বৈজ্ঞানিক তহবিল এই গবেষণায় অর্থায়ন করেছে।

কাজের পদ্ধতি

[edit | edit source]

এই বায়োব্যাটারির ইলেকট্রোড তৈরি হয়েছে জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজ দিয়ে। এটি টিউমার স্থানে স্থাপন করা হলে শরীরের তরলের উপস্থিতিতে সক্রিয় হয়ে ডিসচার্জ করে এবং জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজ আয়ন নির্গত করে।

এই আয়নসমূহ টিউমার সংলগ্ন পরিবেশে নিম্নলিখিত পরিবর্তন আনে:

  • ক্যানসার কোষের বিপাক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে টিউমারের বৃদ্ধি বন্ধ হয়।
  • রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উত্তেজিত করে, যাতে টি-কোষগুলি ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে।
  • প্রতিক্রিয়াশীল অক্সিজেন যৌগ (ROS) তৈরি করে, যা সরাসরি ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে।

এই ব্যাটারি কেবলমাত্র ক্যানসারযুক্ত টিস্যুর শরীর তরলে সক্রিয় হয়, ফলে শরীরের অন্যান্য অংশে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়।

মূল ফলাফল

[edit | edit source]

ল্যাব-পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাবকিউটেনিয়াস টিউমারে এই বায়োব্যাটারির ব্যবহারে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে টিউমারের আয়তন ১,০০০ mm³ থেকে ৪ mm³-এ নেমে আসে—যা ৯৯.৬% হ্রাস।

এই প্রযুক্তি ধাতব আয়নের স্থানীয় নির্গমন ঘটিয়ে সিস্টেমিক বিষক্রিয়া এড়িয়ে চলে, ফলে প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম।

হাইপোক্সিয়া-সক্রিয় প্রোড্রাগ (HAP) এর সঙ্গে একত্রে ব্যবহারে ইন ভিট্রো পরীক্ষায় ৯৮% পর্যন্ত ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

চিকিৎসায় প্রয়োগ

[edit | edit source]
  • **টার্গেটেড থেরাপি**: যন্ত্রটি সরাসরি টিউমারে স্থাপন করা হয়, ফলে থেরাপিউটিক আয়ন ও ROS নির্ভুলভাবে নির্গত হয়।
  • **ইমিউনোথেরাপির সহায়তা**: বায়োব্যাটারি শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে, যা কিছু প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে।
  • **স্কেলআপ সম্ভাবনা**: গবেষকরা এখন প্রিক্লিনিকাল ও ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে এই প্রযুক্তি রোগীদের কাছে পৌঁছাতে পারে।

এই নতুন বায়োব্যাটারি কৌশল ইলেক্ট্রোরসায়নের সাহায্যে টিউমার পরিবেশকে রূপান্তরিত করে, যা প্রচলিত ওষুধ বা রেডিয়েশন-ভিত্তিক চিকিৎসার তুলনায় অধিক নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হতে পারে।


সূত্র

[edit | edit source]