Jump to content

Wn/bn/ইইউ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আইন পাসের পর সিরিয়ায় গমের চালান পৌঁছেছে

From Wikimedia Incubator
< Wn | bn
Wn > bn > ইইউ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আইন পাসের পর সিরিয়ায় গমের চালান পৌঁছেছে

বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

সিরিয়ার তারতুস বন্দরে ২৮,৫০০ টন গম নিয়ে একটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিরিয়ার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর এটি অন্যতম একটি বড় বাণিজ্যিক চালান। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পর বর্তমানে দেশটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করছে।

বুধবার একটি নতুন আইন পাশ করার মাধ্যমে ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। গত সপ্তাহে ইইউ-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ এই সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও একই রকম ঘোষণা দিয়েছিল।

দামেস্ক থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মাহমুদ আব্দুল ওয়াহেদ জানিয়েছেন, এই গম কোথা থেকে এসেছে তা জানা না গেলেও, এটি সিরিয়ার সাধারণ মানুষ ও সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয় যে সিরিয়া আবার অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য শুরু করতে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে পুনরায় যোগ দিতে পারবে।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে সিরিয়ার রাস্তাঘাট, বিভিন্ন কাঠামো এবং অর্থনীতি পুনর্গঠনে সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে সেন্ট্রাল ব্যাংকসহ সিরিয়ার অন্যান্য ব্যাংকগুলো আবারও ইউরোপীয় আর্থিক বাজারের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য সিরিয়া পুনর্গঠনে ইউরোপের সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, সিরিয়ার সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং একটি ভালো ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করাই ছিল সঠিক পদক্ষেপ।

আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত সাবেক রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের সরকারের ওপর আরোপ করা হয়েছিল। একটি বিদ্রোহী হামলার পর ডিসেম্বরে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। বর্তমানে আহমেদ আল-শারা অন্তর্বর্তীকালীন (অস্থায়ী) রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সিরিয়ার পক্ষে অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করা বা বিদেশী বিনিয়োগ পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।

রাষ্ট্রপতি আল-শারা এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়ার জন্য জোর দিয়েছিলেন যেন সিরিয়া স্থিতিশীল হয়ে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে পারে।

অনেক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলেও, ইইউ এখনও কিছু নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। সাবেক আসাদ সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সম্পদ জব্দ রাখার মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে নতুন করে দুজন ব্যক্তি ও তিনটি সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উৎস

[edit | edit source]